হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনিকে 'একটি উজ্জ্বল মডেল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও প্রতাবপুর দরবার শরীফের পেশ ইমাম মাওলানা রুহুল আমিন।
বৈশ্বিক শান্তি চর্চার প্রসঙ্গে এক বিশেষ আলোচনায় তিনি বলেন, আধিপত্যবাদ ও অশান্তির যুগে আয়াতুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বে ইরান যে আদর্শিক অবস্থান, স্বাধীনচেতা নীতি ও আত্মনির্ভরশীল প্রতিরোধ মডেল বিশ্বসামনে উপস্থাপন করেছে, তা বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে এক উদ্দীপনামূলক উদাহরণ।
তার বক্তব্যের প্রধান স্তম্ভগুলো নিম্নরূপ:
১. সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্বের পতাকাবাহী:
পশ্চিমা সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের এই যুগে ইসলামী মূল্যবোধ ও জাতীয় পরিচয় রক্ষায় ইরানের দৃঢ় অবস্থান বিশ্বের সকল স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য একটি অনুস্মারক।
২. ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার অগ্রভাগের কণ্ঠ:
শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর একচেটিয়া দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে আয়াতুল্লাহ খামেনির সাহসী উচ্চারণ ও ন্যায়নির্ভর বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার দাবি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য এক অপরিহার্য আহ্বান।
৩. প্রতিরোধের দর্শন: আত্মসম্মানবোধের অভিব্যক্তি:
'প্রতিরোধ অর্থনীতি' ও 'প্রতিরোধ সংস্কৃতি'র মাধ্যমে একটি জাতির আত্মমর্যাদাবোধ, স্বাধীন সত্তা ও আদর্শিক দৃঢ়তার যে অনন্য নজির স্থাপিত হয়েছে, তা বিশ্ব ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।
৪. আন্তঃসভ্যতা সংলাপের পৃষ্ঠপোষকতা:
বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও সভ্যতার মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় ইরানের গৃহীত উদ্যোগ শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় একটি গতিশীল ভূমিকা রেখে চলেছে।
ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় অবস্থান:
ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর ইসলামী বিপ্লবের আদর্শিক উত্তরাধিকারকে সামনে রেখে আয়াতুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বকে একটি সম্প্রসারিত অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন মাওলানা আমিন। তার ভাষায়, নিপীড়িত মানুষের পক্ষে অবিচল অবস্থান, আধিপত্যবাদের মুখোমুখি দাঁড়ানোর স্পষ্টতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের সমন্বয় – এই ত্রয়ী নীতিই বর্তমান বিশ্বে ইরানকে একটি স্বতন্ত্র ও প্রভাবশালী মডেলে পরিণত করেছে।
সমসাময়িক বিশ্বপ্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিকতা:
যুদ্ধবিগ্রহ, ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও বৈশ্বিক উত্তেজনার এই জটিল সময়ে আয়াতুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বে ইরানের অবস্থানকে শান্তি, সংলাপ ও ন্যায়বিচারের প্রতি এক অঙ্গীকারবদ্ধ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। "দুর্বল ও নির্যাতিত রাষ্ট্রসমূহের পক্ষে তাদের কণ্ঠস্বর এবং ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা বৈশ্বিক ইতিহাসে একটি মহৎ ভূমিকা রাখবে," বলেন মাওলানা রুহুল আমিন।
চিন্তার নতুন দিগন্ত:
মাওলানা রুহুল আমিনের এই মূল্যায়ন বৈশ্বিক শান্তি, ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তার আলোচনায় একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করেছে। তার মতে, আধ্যাত্মিক দৃঢ়তা, নৈতিক সাহস ও ন্যায়নিষ্ঠার ভিত্তিতে গড়ে উঠা নেতৃত্বই পারে বিশ্বময় অস্থিরতা ও সংঘাতের মাঝে প্রকৃত শান্তি ও স্থিতিশীলতার এক কার্যকর দৃষ্টান্ত উপহার দিতে। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং বিশ্বশান্তির জন্য একটি দার্শনিক ও নৈতিক রূপরেখারও সন্ধান দেয়।
আপনার কমেন্ট